জিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে
স্বর্ণের বাজারে আগুন, অর্থনীতিতে উদ্বেগ
দেশের স্বর্ণবাজারে যে দামে এখন লেনদেন হচ্ছে, তা কেবল বিলাসপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির গল্প নয়—এটি এক ধরনের নীরব অর্থনৈতিক ভাষ্য। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ৩ লাখের কাছাকাছি যাওয়ায় বিয়ের বাজারে অস্বস্তি তৈরি হলেও, এর চেয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভেতরের আস্থাহীনতা নিয়ে। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের এই রেকর্ড মূল্য আসলে ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগের প্রতিফলন—যা টাকার মান, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতি আস্থার সংকটকে স্পষ্ট করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম যখন এভাবে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তখন তা সাধারণত কোনো একক ঘটনার ফল নয়। বরং এটি অর্থনীতির গভীরে জমে থাকা অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি ও প্রত্যাশার সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ। টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের সীমিত সুযোগ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে মানুষ ধীরে ধীরে ঝুঁকছে এমন সম্পদের দিকে, যাকে তারা দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে। সেই বাস্তবতায় স্বর্ণ এখন কেবল অলংকার নয়—একটি মানসিক নিরাপত্তার প্রতীক।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, স্বর্ণের বাজার অনেক সময় এমন অর্থনৈতিক বার্তা দেয়, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা আনুষ্ঠানিক সূচকের ভাষায় তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না। এটি মূলত মানুষের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা ও আস্থার সূচক—যা নীরবে কিন্তু গভীরভাবে অর্থনীতির গতিপথের ইঙ্গিত দেয়।