ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় চান নসরুল হামিদ বিপু!
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নসরুল হামিদ বিপুর এক নিকটাত্মীয় বাহান্ন নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফ্রান্স আওয়ামী লীগের এক নেতাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বিপুর কান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘ এরাই দলটারে খেয়েছে। শেষ সময়ে দলের ত্যাগী লোকজনকে বাদ দিয়ে কিছু সুবিধাভোগী ইউটিউবার, ইসফ্লুয়েন্সারকে দলের নেত্রীর কাছে ভিড়িয়েছেন। যারা সবাই ছিল সুবিধাবাদী। তৃণমূলের ত্যাগীরা এইসব নেতাদের কাছে প্রচার মতো।’
ক্ষুদ্ধ এ নেতা আরো বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকিতে এরা কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে দলের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ধান্দাবাজ লোকজন, ধান্দাবাজ সাংবাদিক নিয়ে নিজের ফায়দা লুটেছে। নেত্রীকে বিপদে ফেলে সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে কাছের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান ও তার স্বামীকে।
সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপনে দেশ ছাড়েন নসরুল হামিদ বিপু। এরপর কয়েকটি দেশ ঘুরে পরিবার নিয়ে তিনি ফ্রান্সে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। তবে তাঁর করা আবেদন বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নসরুল হামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা ও আদালতের বিভিন্ন আদেশ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে নসরুল হামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। একই অভিযোগে তাঁর স্ত্রী সীমা হামিদ ও ছেলে জারিফ হামিদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করা হয়। এসব মামলায় নসরুল হামিদকেও আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি নসরুল হামিদ ও তাঁর স্ত্রী সীমা হামিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নসরুল হামিদ তাঁর স্ত্রী সীমা হামিদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।
পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল ২০২৫ নসরুল হামিদের ঢাকার একটি ফ্ল্যাট, তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট ও তিনটি গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর ৭০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনে বলা হয়, এসব হিসাবে মোট ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ টাকা রয়েছে।জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রাজধানীর পরীবাগের প্রিয় প্রাঙ্গণে একটি ফ্ল্যাট এবং বনানীর পিপি টাওয়ারে তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৮৫ লাখ ৫ হাজার ৯৪৭ টাকা বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তিনটি গাড়ির বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার ৫২৯ টাকা। নসরুল হামিদ বিপু ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক ইনফ্লুয়েন্সারকে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন নসরুল হামিদ বিপু। এ ঘটনায় ছাত্রলীগসহ সে সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।