নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৭৩৪, নিখোঁজ ২৪৯৮
নেপাল ও তিব্বতের পার্বত্য সীমান্তে ভোতে-কোশি ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে ২ দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে।
৩০ আগস্ট রোববার সকাল ৯ টায় নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তিপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এখনও ৫৮৯ জন বিদেশী সহ মোট ২৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশীদের অধিকাংশ ভারতীয় তীর্থ যাত্রী বলে জানা গেছে।
দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে। উদ্ধারকর্মীরা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অনুসন্ধান চালিয়ে এ পর্যন্ত ৮১৮৬ জনকে মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, যার মধ্যে ২৫০ জন বিদেশী পর্যটক রয়েছেন।
ভূমিধসের মাত্র দুই দিন পরই নেপালের ভোতে-কোশি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয় সরকার নিম্নাঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে।
একই দুর্যোগে তিব্বতে ১৬ জন নিহত ও ৫৪৬ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
বৃষ্টি ছাড়া যেভাবে বন্যার সৃষ্টি
বুধবার হিমালয়ের লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে। বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ পাহাড়ি সীমান্তঘেঁষা লেন্দে খোলা নদীর দিকে ধেয়ে যায়। সেই সঙ্গে নেমে আসে কাদা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ। দ্রুতগতির এই স্রোত তিব্বতের গিরং বন্দর ও নেপালের দিকে আছড়ে পড়ে।
বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি ও পাথর ভোতে-কোশি ও ত্রিশূলী নদীতে নেমে আসে। মাত্র ৩০ মিনিটে নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বা ৩০ ফুট বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে নদীর পানি হঠাৎ ফুলে গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা তৈরি হয়। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গ্রামের পর গ্রাম পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নেপালের প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।