জলবায়ু সচেতনতার বার্তা নিয়ে ৬,১১৯ মিটার শৃঙ্গে সফল সামিট
হিমালয়ের চূড়ায় উড়ল বাংলাদেশের পতাকা
নেপালের হিমালয়ে ৬ হাজার ১১৯ মিটার উচ্চতার সেমি-টেকনিক্যাল পর্বতশৃঙ্গ লোবুচে ইস্ট সফলভাবে আরোহণ করেছেন রোপফোর থেকে তিন অভিযাত্রী কামরুল ইসলাম, তূর্য দাস ও নাইম আল নাহিয়ান। গত ২৭ অক্টোবর নেপাল সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে) তাঁরা পর্বতটির চূড়ায় পৌঁছান এবং সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও রোপফোরের অফিশিয়াল পতাকা উড়িয়েছেন।
‘রোপফোর মাউন্টেন এক্সপেডিশন ২০২৬’ শীর্ষক এই অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর দলটি বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা করে। এর আগে ৯ অক্টোবর ঢাকার পূর্ব কাফরুলে রোপফোরের কার্যালয়ে আয়োজিত পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অভিযাত্রীদের হাতে জাতীয় পতাকা ও রোপফোরের অফিশিয়াল পতাকা তুলে দেওয়া হয়। অভিযানের দলনেতা ছিলেন কামরুল ইসলাম।
হিমালয়ে দ্রুত বরফ গলে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। অভিযানের প্রতিপাদ্য: The Himalayas are melting, and the responsibility is ours too (হিমালয় গলছে, দায় আমাদেরও)। বার্তাটি ধারণ করে পুরো অভিযানে দলটি ‘জিরো-ওয়েস্ট ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করে এবং পাহাড়ে কোনো অপচনশীল বর্জ্য না ফেলে সমতলে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যায়।
এবারের লোবুচে ইস্ট পিক অভিযানে অংশ নেওয়া তিনজনই রোপফোরের বিশেষ আয়োজন ‘মিশন হিমালয়া ২০২৪’-এর অংশগ্রহণকারী। শিক্ষক কামরুল ইসলাম আসরটির বিজয়ী হয়ে স্কলারশিপের আওতায় নেপালের ইয়ালা পিক (৫,৫২৫ মিটার) আরোহণ করেছিলেন। দলের বাকি দুজন সদস্যের জন্য এবার হিমালয়ে প্রথম কোনো পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের অভিযান এটি। তাঁদের মধ্যে নাইম আল নাহিয়ান পেশায় একজন শিক্ষক ও ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন গবেষক এবং তূর্য দাস একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী।
চূড়ায় আরোহণ শেষে অভিযাত্রীরা নিরাপদে ফরিচে গ্রামে নেমে এসেছেন এবং তাঁরা সুস্থ আছেন।